প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 26, 2025 ইং
ভোটের মাঠে জান্তা, সামনে মিয়ানমার

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ক্ষমতা দখল করে রাখা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং গৃহযুদ্ধের মধ্যেই দেশকে নির্বাচনের পথে নিতে চাইছেন, যা মূলত সামরিক শাসনকে আরও পাকাপোক্ত করার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া নির্বাচনে জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে বলেন, এমন প্রার্থীদের বেছে নিতে হবে যারা তাতমাদো বা মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে। তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, সশস্ত্র বিদ্রোহের ময়দানে যা অর্জন করা যায়নি, তা নির্বাচনের মাধ্যমে আদায় করাই জান্তার লক্ষ্য, পাশাপাশি বিদেশে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে যে বিরূপ মনোভাব রয়েছে, তা কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মতে, গৃহযুদ্ধে জর্জরিত এই দেশে নির্বাচন আদৌ স্থিতিশীলতা আনবে—এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ, বরং বিতর্কিত এই ভোটের ফল আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ৩৩০টি শহর এলাকার মধ্যে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ২২০ এলাকাতেই ভোট হবে, যা নির্বাচনকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গবেষণা সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, পরোক্ষ সামরিক শাসন বিদ্রোহ বা নাগরিক প্রতিরোধের কোনো সমাধান দেবে না, বরং সংকট আরও গভীর করবে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর তাঁর দল এনএলডিকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, একই সঙ্গে জান্তাবিরোধী দলগুলোও ভোট বর্জন করেছে। ফলে মাত্র ছয়টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে সামরিক বাহিনী–সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। এই দল জয়ী হলে মিন অং হ্লাইং আরও শক্ত অবস্থানে থাকবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যদিও অতীতে সামরিক সমর্থিত সরকার থেকেও ভিন্ন পথে যাওয়ার নজির রয়েছে। তবু বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জান্তার আয়োজিত এই নির্বাচন সংঘাত আরও ছড়িয়ে দিতে পারে এবং মিয়ানমারের টেকসই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকে আরও দূরে ঠেলে দেবে
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD